ইসলামিক দৃষ্টিতে কারো মৃত্যুতে খুশি হওয়া নিয়ে আলোচনা

 ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় ৯৯% মানুষ পুলিশকে ঘৃণার চোখে দেখে এবং দিন দিন তাদের প্রতি মানুষের মনোবল ও আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ অকাট্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, এমনকি জারজ সন্তান বলতেও দ্বিধাবোধ করেন না। প্রায় লোক মুখে শোনা যায় পুলিশের সন্তান-সন্ততিরা নাকি প্রতিবন্ধী হয়। (তা কতটুকু সঠিক আমি জানিনা) এটি শুনে আসলে তাদের পরিবার-পরিজনরা অনেক কষ্ট পান। একজন পুলিশকে এভাবে তিরস্কার করা উচিত নয়। তারাও তো আমাদের মতো মানুষ। এমনকি পুলিশ মারা গেলে খুশি হয় এবং কমেন্টে আলহামদুলিল্লাহ লিখেন যদিও সে মুসলমান। যেমনটি তারা নাস্তিক ব্লগারের ব্যাপারে লিখে থাকেন। পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণার এ অবস্থা দেখে বাংলাদেশের অসংখ্য যুবক পুলিশের প্রার্থীগণ পিছপা হচ্ছেন। আজ পুলিশের এই অবস্থার জন্য পুলিশ নিজেই দায়ী। পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা কিন্তু সেই পুলিশ আজ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ। ঘুষ-দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব ও নানারকম অনিয়মের সাথে জড়িত পুলিশ। আজ পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে মাঠে ময়দানে কাজ করত তবে বাংলাদেশের জনগণের সমালোচনার মুখে পরতে হতো না ।


✅ বাংলাদেশ পুলিশের একটি স্লোগান আমার খুব ভালো লাগে- 

"পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ" কিন্তু এই স্লোগান কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা আমি জানিনা।

আজ কেন পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের এতো ক্ষোভ।

অন্যদিকে স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কেউ মারা গেলেও অনেকে খুশি হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেন।


আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কারো প্রতি ঘৃণা পোষণ করা বা মারা গেলে খুশি হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলা সম্পর্কে ইসলাম ধর্মে কি বলা আছে-


وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا دَعَا جِبْرِيلَ فَقَالَ: إِنِّي أُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبَّهُ قَالَ: فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ ثُمَّ يُنَادِي فِي السَّمَاءِ فَيَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فَأَحِبُّوهُ فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الْأَرْضِ. وَإِذَا أَبْغَضَ عَبْدًا دَعَا جِبْرِيلَ فَيَقُولُ: إِنِّي أُبْغِضُ فُلَانًا فَأَبْغِضْهُ. فَيُبْغِضُهُ جِبْرِيلُ ثُمَّ يُنَادِي فِي أَهْلِ السَّمَاءِ: إِنَّ اللَّهَ يُبْغِضُ فَلَانَا فَأَبْغِضُوهُ. قَالَ: فَيُبْغِضُونَهُ. ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْبَغْضَاءُ فِي الْأَرْضِ . رَوَاهُ مُسلم 


আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসী, তুমিও তাকে ভালোবাসো। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ.)-ও তাকে ভালোবাসতে থাকেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ তা’আলা অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। অতঃপর সে বান্দার জন্য জমিনেও স্বীকৃতি স্থাপন করা হয়। আর যখন আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখন জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন যে, আমি অমুক বান্দাকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা করো। রাবী বলেন, অতঃপর জিবরীল (আ.)-ও তাকে ঘৃণা করেন এবং আকাশে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ তা’আলা অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা করো এবং আকাশবাসীরাও তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও ঘৃণা স্থাপন করা হয়। (মুসলিম)[1]


তথ্যসূত্র: ✅ [1] সহীহ : মুসলিম ১৫৭-(২৬৩৭৮), সহীহুল জামি‘ ২৫৮৫, আহমাদ ৮৫০০, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৭৭৪৭।

অপর আরেকটি হাদিসে এ সম্পর্কে স্পষ্ট বলা আছে যেমন


أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: مَرُّوا بِجَنَازَةٍ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রوَجَبَتْগ্ধ ثُمَّ مَرُّوا بِأُخْرَى فَأَثْنَوْا عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ: ্রوَجَبَتْগ্ধ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: مَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: ্রهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا، فَوَجَبَتْ لَهُ الجَنَّةُ، وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا، فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الأَرْضِ

‘হযরত আনাস (র:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু সাহাবায়ে কেরাম ও রাসূল (দ:) একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছু সংখ্যক লোক তারা মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির ভাল গুণাবলী আলোচনা করছিলেন, তখন প্রিয় নবী (দ:) বললেন, (তোমাদের ভাল প্রশংসার দ্বারা) ওয়াজিব হয়ে গেল। অপর আরেকটি জানাযার পাশ দিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে লোকেরা মৃত ব্যক্তিদের মন্দ বিষয়াদি আলোচনা করছিলেন, তখন প্রিয় নবী (দ:) বলেন, (তোমাদের মন্দ আলোচনার দ্বারা) ওয়াজিব হয়ে গেল। হযরত উমর (র:) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! কি চূড়ান্ত বা ওয়াজিব হয়ে গেল? প্রিয় নবী (দ:) ইরশাদ করলেন, যে মৃত ব্যক্তিটির তোমরা ভাল গুণাবলী আলোচনা করেছ, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর যে মৃত ব্যক্তির মন্দ আলোচনা করেছ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। কেননা তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী স্বরূপ।’’

তথ্যসূত্র: ✅ ক. ইমাম বুখারী : আস্ সহীহ : কিতাবুয জানাইয : ১/৪৬০ পৃ. হাদিস নং ১৩৬৭, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত।

খ. ইমাম মুসলিম : আস্ সহীহ : ২/৬৫৫ পৃ. : কিতাবুয্ জানাইয : হাদিস : ৯৪৯, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত।

গ. খতিব তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ : ১/৩১৭ পৃ., হাদিস : ১৬৬২

ঘ. ইমাম তিরমিযী,আস্-সুনান,২/৪৫পৃ.হাদিস,১০



উপরোক্ত দুটি হাদিস থেকে আমরা স্পষ্ট জানতে পারলাম যে, ইসলাম ধর্ম মতে-

আল্লাহ যদি কাউকে ভালবাসেন তখন আল্লাহ তাঁর দূত জিব্রাইলকে ডেকে বলেন আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি তুমিও তাকে ভালোবাসো অতঃপর জিব্রাইল ঐ বান্দাকে ভালোবাসে এবং আসমানের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসে এবং জমিনে সকলের কাছে তার ভালোবাসা পৌঁছে যায়। অপরদিকে আল্লাহ যাকে ঘৃণা করেন তাকে জিব্রাইল ও আল্লাহর সকল ফেরেশতা ঘৃণা করেন এবং এই ঘৃণা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে মানুষও তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে থাকেন। অপরদিকে কেউ যদি মারা যায় তার প্রতিবেশীরা যদি তাকে ভালো বলে তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় অর্থাৎ আবশ্যক হয়ে যায়। আর অন্যদিকে প্রতিবেশীরা যদি তাকে মন্দ বলে তবে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যায়।


✅ আমার দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ যদি মারা যায় তাকে নিয়ে খুশি হওয়া উচিত নয় যদিও সে অপরাধী। কেননা আমরা সবাই মানুষ। আর মানুষ মাত্রই ভুল । আমরা কেউ ভুলের উর্ধ্বে নই। এ সময় আমাদের উচিত তার পরিবারের পাশে থাকা। 


আমার এই পোস্টটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন, ধন্যবাদ


........……......✍️কে আই আজাদ 

Comments

Popular posts from this blog

বৈষম্য কবিতা

বিসিএস দিতে পারবে ফাজিল-কামিল পাস শিক্ষার্থীরাও

"হে মহাবীর" কবিতা